ঘুমের মধ্যে মানুষ কেন দাঁত কিরমির করে? এবং চিকিৎসা কি?

 ঘুমের মধ্যে মানুষ কেন দাঁত কিরমির করে? কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

ঘুমের মধ্যে মানুষ কেন দাঁত কিরমির করে? কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা


ঘুমের মধ্যে অজান্তেই দাঁত শক্ত করে চেপে ধরা বা ঘষাঘষি করার অভ্যাসকে ব্রুক্সিজম (Bruxism) বলা হয়। অনেকেই নিজের এই অভ্যাস সম্পর্কে জানেন না। তবে পাশে থাকা ব্যক্তি দাঁত ঘষার শব্দ শুনে বিষয়টি বুঝতে পারেন।


দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিরমির করলে দাঁতের ক্ষয়, চোয়ালে ব্যথা, মায়্লথাব্যথা এবং ঘুমের মান খারাপ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।


ঘুমের মধ্যে দাঁত কিরমির করার কারণ কী?


ঘুমের সময় দাঁত কিরমির করার একটি নির্দিষ্ট কারণ সবসময় পাওয়া যায় না। তবে কয়েকটি বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে—


১. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ


অতিরিক্ত স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ ঘুমের মধ্যে দাঁত চেপে ধরা ও ঘষার প্রবণতা বাড়াতে পারে।


২. ঘুমের সমস্যা


ঘুমের ব্যাঘাত, নাক ডাকা বা কিছু ক্ষেত্রে স্লিপ অ্যাপনিয়া-র মতো ঘুম-সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে ব্রুক্সিজমের সম্পর্ক থাকতে পারে।


৩. ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল


অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ এবং অ্যালকোহল ব্যবহারের সঙ্গে কিছু মানুষের ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষার সম্পর্ক দেখা যায়।


৪. কিছু ওষুধ


কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ব্রুক্সিজমের সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই কোনো ওষুধ শুরু করার পর সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।


৫. জীবনযাপন ও ঘুমের অনিয়ম


অনিয়মিত ঘুম, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ সমস্যাটিকে বাড়িয়ে দিতে পারে।


কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?


ঘুমের মধ্যে দাঁত কিরমির করার কারণে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর—


- চোয়ালে ব্যথা বা শক্তভাব

- মাথাব্যথা

- দাঁতে ব্যথা বা সংবেদনশীলতা

- দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয় হয়ে যাওয়া

- দাঁতে ফাটল বা ভাঙার ঝুঁকি

- মুখ খোলার সময় অস্বস্তি

- কানের আশপাশে ব্যথা

- ঘুম থেকে ওঠার পর চোয়াল ক্লান্ত লাগা


ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।


ঘুমের মধ্যে দাঁত কিরমির করার চিকিৎসা কী?


চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ ও তীব্রতার ওপর। সাধারণত চিকিৎসক বা ডেন্টিস্ট নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে পারেন।


১. ডেন্টাল পরীক্ষা


দাঁতের ক্ষয়, ফাটল বা অতিরিক্ত চাপের চিহ্ন আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।


২. নাইট গার্ড বা স্প্লিন্ট


ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী রাতে ব্যবহারের জন্য মাউথ গার্ড/নাইট গার্ড দেওয়া যেতে পারে। এটি দাঁতকে সরাসরি ঘষাঘষি থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।


৩. স্ট্রেস কমানো


মানসিক চাপ ও উদ্বেগ থাকলে শিথিলায়ন, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ উপকারী হতে পারে।


৪. ঘুমের অভ্যাস ঠিক করা


প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া এবং ঘুমের আগে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা সহায়ক হতে পারে।


৫. অন্য কোনো রোগ বা ওষুধের ভূমিকা থাকলে তা মূল্যায়ন


স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের সমস্যা বা কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?


যদি নিয়মিত ঘুমের মধ্যে দাঁত কিরমির করার শব্দ হয়, দাঁত ক্ষয় হতে থাকে, চোয়ালে ব্যথা হয়, সকালে বারবার মাথাব্যথা হয় অথবা দাঁতে ফাটল/ব্যথা দেখা দেয়—তাহলে একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


বিশেষ করে প্রচণ্ড নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলে ঘুম-সংক্রান্ত সমস্যার জন্যও চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।


শেষ কথা


ঘুমের মধ্যে দাঁত কিরমির করা সাধারণ মনে হলেও দীর্ঘদিন চলতে থাকলে দাঁত ও চোয়ালের ক্ষতি হতে পারে। তাই সমস্যাটি নিয়মিত হলে কারণ খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনে ডেন্টিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।


স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যের জন্য Health Bangla Online-এর সঙ্গে থাকুন।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যে সব মেয়েরা মিলনের জন্য পাগল

প্রোস্টেটের বৃদ্ধি (BPH) কী?